বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও দলীয় সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রয়োজনীয় রক্ষাকবচ নিশ্চিত করতে পারলে দলীয় সরকারের অধীনেই স্বচ্ছ এবং ন্যায়নিষ্ঠ নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব। রোববার রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘নেহরীন খান স্মৃতি বক্তৃতায়’ তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
‘সাংবিধানিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক বক্তৃতায় ফরাসউদ্দিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে ‘রাজনীতির ওপর অনাস্থাজনিত আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে, নির্বাচনের ৯০ দিন আগে বর্তমান সরকারের পরিধি ছোট করে সেটিকে একটি রুটিন ওয়ার্কের নির্বাচনি সরকারে রূপান্তর করা যেতে পারে। এ সময় সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা ও প্রটোকল স্থগিত রাখা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ফরাসউদ্দিন বলেন, সেই সময় দলীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যে অহেতুক বিতর্ক রয়েছে, তার সমাধান মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ২৭ মার্চের ঘোষণার মধ্যেই রয়েছে।
স্মারকবক্তৃতায় তিনি ২০০৭ সালের ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেই সময় সংস্কারের নামে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উভয়কেই রাজনীতি থেকে মাইনাস করার বা সরানোর একটি অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃঢ়তায় ব্যর্থ হয়।
দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফরাসউদ্দিন বলেন, আয় ও সম্পদের বৈষম্য বাড়ার ফলে অর্থনীতি কিছুটা গতি হারিয়েছে। এছাড়া রাজস্ব ও জিডিপির অনুপাত এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের নিম্নগতি দেশের অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনুষ্ঠানটিতে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টিবোর্ডের সভাপতি মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং বিশিষ্ট সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন