টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে দেশের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে দুঃসংবাদ শুনিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারি এবং কিছু জায়গায় ৮৮ মিলিমিটারের চেয়েও বেশি অতি ভারি বর্ষণের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এই বৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা সরকারি-বেসরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, অতিভারি এই বৃষ্টির ফলে দেশের প্রায় ১২টি জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। বর্তমানে দেশের বেশ কিছু প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে সাঙ্গু, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে নতুন করে পানি ঢুকে পড়ছে। আগামী দুদিনের মধ্যে ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও কিছু এলাকায় উন্নতির আশা দেখা দিয়েছে, তবে সার্বিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবান, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কিছু অংশে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাগুলোতেও সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির এই নাজুক অবস্থায় নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে কাজের সন্ধানে বের হতে না পারা শ্রমজীবী মানুষদের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন