সারা দেশে গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে চলছে অবিরাম ভারী বর্ষণ। এই বৃষ্টির ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের অনেক উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সপ্তাহ শুরুর প্রথম কর্মদিবসেই নগরবাসী পড়েছে চরম দুর্ভোগে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর কিছুটা আশার বাণী শুনিয়েছে যে, আগামী সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে বৃষ্টির প্রবণতা ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সারা দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকবে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
সোমবারের পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বৃষ্টি কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা থাকলেও দেশের অধিকাংশ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা আগের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীতে এবং রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে ৯৭ মিলিমিটার।
টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন্যাকবলিত অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা কিছুটা কমলেই জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।
আপনার এলাকায় কি বৃষ্টির কারণে বড় কোনো জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দিয়েছে?
মন্তব্য করুন