শক্তিশালী টাইফুন বাভির প্রভাবে চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এবং শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টির কারণে লিয়াওনিং প্রদেশ থেকে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষকে জরুরিভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে শেনইয়াং ও জিলিনসহ বিভিন্ন শহরে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার তীব্রতায় শেনইয়াং শহরে একটি বাতিঘর ভেসে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে, যেখানে দেখা যায় বাতিঘরটি বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে ভেসে যাচ্ছে।
প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেনইয়াং ও জিলিনের সব স্কুল এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হওয়ার ১৩ দিন পর এটি চীনের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে এবং এর কাঠামো অক্ষত থাকায় এটি উত্তর দিকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা নিয়ে ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইফুনের কেন্দ্রের উষ্ণ অংশ অস্বাভাবিকভাবে অক্ষত থাকায় এটি দীর্ঘ সময় ধরে প্রচুর জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারছে, যা উত্তর চীনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আরও বড় বন্যার আশঙ্কা তৈরি করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন এবং সরকারি দুর্যোগকালীন সতর্কতা মেনে চলতে অনুরোধ জানিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন