বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের ভেতর আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছিল, সেই রেশ যেন এখনও কাটেনি। ঘটনার পর দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ পার হয়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞপ্তির পর বিষয়টি নিয়ে উত্তাপ আবার চরমে উঠেছে। ফিফা কর্তৃক প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলারসহ মোট চারজনকে সব মিলিয়ে ১৮ ম্যাচের বড় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ব ফুটবলে বেশ বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সবচেয়ে কঠোর শাস্তিটি পেতে হয়েছে মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে। ফাইনাল ম্যাচের পর প্রতিপক্ষ দলের তরুণ খেলোয়াড় গাভিকে যেভাবে তিনি আছাড় মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলেন, তার খেসারতস্বরূপ তাকে ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সমপরিমাণ আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি নাহুয়েল মোলিনাকে সাত ম্যাচে এবং থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমার শাস্তির মুখে পড়েছেন।
ফিফার এই কঠোর শাস্তির ঘোষণা আসার সাথে সাথেই ইউরোপের ফুটবল অঙ্গন, বিশেষ করে স্পেনের গণমাধ্যমগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। স্পেনের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম মার্কা তাদের প্রচ্ছদে অত্যন্ত উসকানিমূলক শিরোনাম ছেপেছে। গাভির ওপর পারেদেস ও আলমাদার চড়াও হওয়ার সেই পুরোনো ছবি প্রকাশ করে তারা শিরোনামে লিখেছে, ‘হার মেনে নিতে না পারার জন্য কঠোর শাস্তি’।
শুধু প্রচ্ছদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি স্প্যানিশ মিডিয়া, বরং আর্টিকেলের ভেতরের পাতার লেখায় লেখক মিগেল সাঞ্জ কোনো রাখঢাক না রেখেই বেশ কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি আর্জেন্টিনার দলটির এক খেলোয়াড়কে তাদের সবার মধ্যে সবচেয়ে বর্বর এবং বোকা অধিনায়ক বলে আখ্যায়িত করতেও দ্বিধা করেননি। এর পাশাপাশি আর্টিকেলের শেষাংশে ‘ফকল্যান্ডস ব্যানার’-সংক্রান্ত বিতর্কটিকেও টেনে আনা হয়েছে এবং এটিকে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। স্প্যানিশ এই সংবাদমাধ্যমে বিষয়টিকে সমর্থকদের পক্ষ থেকে করা এক ধরণের অপমান ও আপত্তিকর নিক্ষেপ হিসেবে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
মন্তব্য করুন