বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় ম্যাচে ৩-২ গোলে হারের পর ফিফার রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে পারেননি তিনি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে এবং লিওনেল মেসিকে এগিয়ে নিতে ম্যাচটিতে কারচুপি করা হয়েছে। তার এই মন্তব্য ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ম্যাচটিতে মিশরের একটি দুর্দান্ত গোল ভিএআর (VAR)-এর মাধ্যমে বাতিল করা হয়, যা নিয়ে শুরু হয়েছে কঠোর সমালোচনা। বিল্ড-আপের সময় লিসান্দ্রো মার্তিনেসের বিরুদ্ধে ফাউলের অভিযোগে গোলটি বাতিল করা হয়। তবে বিশ্লেষক ও ফুটবলপ্রেমীদের মতে, ওই সংস্পর্শ ছিল খুবই সামান্য এবং গোল থেকে অনেক দূরে ঘটা একটি ঘটনা। বিবিসি সাংবাদিক ডেল জনসন এই সিদ্ধান্তকে টুর্নামেন্টের সাধারণ রেফারিং মানদণ্ডের পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া ইংলিশ সাংবাদিক হেনরি উইন্টারও ব্যঙ্গ করে বলেছেন, ভিএআর-এর এই সিদ্ধান্ত ফুটবলীয় যুক্তির বাইরে।
সংবাদ সম্মেলনে মিশরের কোচ অত্যন্ত হতাশ কণ্ঠে জানান, এটি ছিল একটি পাতানো ম্যাচ এবং পুরো বিশ্ব তা দেখেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েই দেওয়া হয়, তবে অন্যান্য দলকে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য ডাকার প্রয়োজন কী ছিল? মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোও একই সুর মিলিয়েছেন, তিনি রেফারিকে সরাসরি ‘পরিশ্রমের ডাকাত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এদিকে, থিয়েরি অঁরি, রয় কিন ও জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের মতো কিংবদন্তিরা এই ঘটনা নিয়ে দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। মিশরের দাবি, মাঠের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পরও বাইরের প্রভাবে তাদের হারতে হয়েছে। আর্জেন্টিনার প্রতি ফিফার বাড়তি সমর্থন রয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও ঘুরপাক খাচ্ছে। বিতর্কিত এই হার ও রেফারিংয়ের ঘটনাটি ২০২৬ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে আলোচিত একটি অধ্যায় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন