ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন যে, দেশের সরকারি কর্মকর্তা, কূটনৈতিক আলোচক এবং ফুটবলাররা সবাই মিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানি জনগণের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি বিশেষ পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবর প্রকাশ্যে আসার পর এবং একই সাথে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইরান দল ড্র করার ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে উদযাপন করতে গিয়ে তিনি এমন বক্তব্য দেন [cite: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনায় অগ্রগতির খবর প্রকাশ এবং বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইরানের ড্র করার পর তিনি এমন মন্তব্য করলেন।]।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে একটি প্রতীকী ছবি যুক্ত করেন, যেখানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত স্কুল শিক্ষার্থীদের একটি ছবি এবং বিশ্বকাপের ফুটবল ম্যাচের মাঠের দৃশ্য একসঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘ফুটবল মাঠ থেকে শুরু করে আলোচনার টেবিল কিংবা যুদ্ধক্ষেত্র—ইরানি হিসেবে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই বৃহত্তর এক সংগ্রামের অংশ; আর তা হলো আমাদের প্রিয় জনগণের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা।’ [cite: লেখেন, ‘ফুটবল মাঠ থেকে শুরু করে আলোচনার টেবিল কিংবা যুদ্ধক্ষেত্র—ইরানি হিসেবে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই বৃহত্তর এক সংগ্রামের অংশ; আর তা হলো আমাদের প্রিয় জনগণের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা।’] এই বার্তার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো প্ল্যাটফর্মেই ইরানিরা তাদের জাতীয় গৌরব সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।
নিজের এই আবেগঘন পোস্টে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শাজারেহ তাইয়্যেবে বালিকা বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্মৃতিও রোমন্থন করেন। সেই নির্মম হামলায় প্রায় ১৬০ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন নিষ্পাপ স্কুলছাত্রী ও তাদের শিক্ষকরা। আব্বাস আরাগচি সেই হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্মরণ করিয়ে দেন যে, মাঠের খেলা কিংবা টেবিলের কূটনীতি—সব কিছুর পেছনেই জড়িয়ে আছে এই সমস্ত সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ ও রক্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দায়বদ্ধতা।
মন্তব্য করুন