মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি সাফ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইরান কখনো কারও কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, "যুদ্ধ কখনোই কোনো দেশের স্বার্থে বা কাম্য হতে পারে না। তবে যদি কেউ মনে করে ইরানের মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব, পবিত্র ভূখণ্ড ও মাতৃভূমিতে আঘাত করে দেশটিকে পিছু হটতে বা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করবে—তবে সেটি হবে তাদের চরম ভুল ধারণা ও ঐতিহাসিক মূর্খতা।" মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধকে উদাহরণ হিসেবে টেনে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, "গত তিন বছর ধরে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়েও তারা গাজার মতো একটি ছোট উপত্যকার মানুষকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি। সেখানে তেহরানকে এভাবে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে পরাজিত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।"
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’-র তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, বুধবার (১০ জুন) গভীর রাতে চালানো এই হামলাটি ছিল ‘ইরানের অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের’ যোগ্য জবাব।
মার্কিন এই আকস্মিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের রণসমীকরণ দ্রুত বদলে গেছে। তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি; তারা মার্কিন হামলার জবাবে একযোগে ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে:
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি এবং ইরানের পাল্টা জবাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে
মন্তব্য করুন