দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় রেলসেবাকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে পর্যায়ক্রমে ৬৪টি জেলাকেই রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। শুক্রবার নেত্রকোণা রেলস্টেশন পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতে রেল সংযোগ রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাকি জেলাগুলোকে যুক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তবে সম্পদ ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে সব কাজ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে। অতীতে রেললাইন নির্মাণ করা হলেও সেই তুলনায় ইঞ্জিন ও বগির সংগ্রহ পর্যাপ্ত ছিল না, ফলে বর্তমানে বিশেষ করে মিটারগেজ রুটে কিছু সংকট রয়ে গেছে। সরকার নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহের পাশাপাশি অকেজো ইঞ্জিনগুলো মেরামত করে এই সংকট কাটানোর চেষ্টা করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, রেলপথে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও যানজট কমাতে বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ, ট্রেনে ইন্টারনেট সুবিধা বাড়ানো এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ড লাইনের মাধ্যমে দূরত্ব কমিয়ে আনার মতো বড় বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নেত্রকোণা রেলস্টেশনের ওয়েটিং রুম আধুনিকায়ন ও টয়লেট নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে এবং আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
নতুন রেললাইন স্থাপনের দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে সরকার জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়। নেত্রকোণার নতুন রেললাইন সংক্রান্ত দাবিটি নিয়ে বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। মাঠ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই ও সমীক্ষায় প্রকল্পটি জনস্বার্থে কার্যকর প্রমাণিত হলেই সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
নেত্রকোণায় সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী এদিন মদন ও মোহনগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন। তার সফরসঙ্গী ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং নেত্রকোণা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।
মন্তব্য করুন