বর্তমানে দেশজুড়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট জনজীবনে যে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে আবাসিক খাত পর্যন্ত এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ঠিক এই স্পর্শকাতর সময়ে ইন্টারনেটে নানা ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও মন্ত্রীদের নামে এমন কিছু মন্তব্য প্রচার করা হচ্ছে যার কোনো ভিত্তি নেই।
সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফেসবুকের কিছু ব্যঙ্গাত্মক বা প্যারোডি পেজ থেকে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ভুয়া বক্তব্য বা ফটোকার্ড তৈরি করা হচ্ছে। বিনোদনের নামে শুরু হওয়া এসব পোস্ট পরবর্তীতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের শেয়ারের মাধ্যমে প্রকৃত সংবাদ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামে ইন্টারনেটে এমন অনেকগুলো ফটোকার্ড ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তিনি বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে সাধারণ মানুষকে কটাক্ষ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু নির্ভরযোগ্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল কোনো প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মূলত ‘Gupto Tv’-এর মতো স্যাটায়ার পেজগুলো থেকেই এসব বিভ্রান্তিকর কন্টেন্ট তৈরি করা হয়েছে।
একইভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর নামেও বিভিন্ন ভিত্তিহীন মন্তব্য ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুৎ বিল বা জাতীয় সংকট নিয়ে এমন কোনো মন্তব্য করেননি, যা ভাইরাল ফটোকার্ডগুলোতে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি রুহুল কবির রিজভীর নামে বিদ্যুৎ বিল কম আসার বিষয়ে যে মন্তব্য ছড়ানো হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যাচাই-বাছাই করলে দেখা যায়, এ ধরনের তথ্যগুলো মূলত বিভিন্ন প্যারোডি পেজ থেকে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়।
প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন সভা-সেমিনারে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন এবং সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঠিক তার উল্টো চিত্র তুলে ধরে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। তাই ইন্টারনেটে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মন্তব্য দেখলে তা যাচাই না করে বিশ্বাস করা বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। বিভ্রান্তি এড়াতে সর্বদা নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম ও সরকারি ঘোষণার ওপর আস্থা রাখা জরুরি
মন্তব্য করুন