ব্রিটেনের সুপারমার্কেটগুলোতে লয়্যালটি কার্ড বা অ্যাপের মাধ্যমে যে বড় বড় ডিসকাউন্টের সংস্কৃতি চলছে, তা নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন আলডি ইউকে-র প্রধান নির্বাহী জাইলস হার্লে। তিনি সরাসরি দাবি করেছেন যে, একটি পণ্যের গায়ের চকচকে ডিসকাউন্ট ট্যাগ দেখে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করার এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। প্রধানমন্ত্রী এন্ডি বার্নহাম সম্প্রতি যেভাবে এই ভুয়া ‘ওয়াস প্রাইস’ বা কৃত্রিম মূল্যহ্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তাকে স্বাগত জানিয়ে হার্লে বলছেন, আসল গুরুত্ব দেওয়া উচিত একটি পরিবারের সাপ্তাহিক মুদি সামগ্রীর মোট বিলের ওপর।
বর্তমান জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে হিমশিম খাওয়া সাধারণ মানুষের কাছে এখন প্রতিটি পেনির হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। কনজ্যুমার অর্গানাইজেশন 'Which?'-এর সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, খরচের চাপে অনেক পরিবারই প্রয়োজনীয় খাবার কিনতেও দ্বিধা বোধ করছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সুপারমার্কেটগুলো লয়্যালটি প্রোগ্রামের নামে এমন সব স্কিম চালাচ্ছে, যেখানে নির্দিষ্ট কার্ড বা অ্যাপ ছাড়া কেনাকাটা করলে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম। জাইলস হার্লে মনে করেন, এসব রিটেইল লেবেল কেবল রিটেইলারের ঠিক করা দামের তুলনায় সাশ্রয় দেখায়, কিন্তু একজন ক্রেতা বাস্তবে অন্য কোথাও ওই একই পণ্য কম দামে পেতে পারেন কি না, তা নিয়ে কোনো স্বচ্ছ তথ্য সেখানে থাকে না।
বাজার কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, লয়্যালটি প্রাইসিংয়ের বড় একটি অংশ সাধারণ দামের তুলনায় কিছুটা সাশ্রয় দিলেও, এটিই চূড়ান্ত সমাধান নয়। একটি পণ্যে বিশাল ছাড় পাওয়া মানেই যে পুরো শপিংয়ে সাশ্রয় হচ্ছে—এই ধারণা ভুল। একজন সাধারণ ক্রেতা তো আর একটি পণ্য কেনেন না, তার কাছে চেকআউটে মোট বিলের পরিমাণটাই আসল বিবেচ্য বিষয়। আলডি ইউকে তাদের ‘এভরিডে লো প্রাইসিং’ মডেলের মাধ্যমে শুরু থেকেই পণ্যের দাম এমনভাবে নির্ধারণ করে রাখে, যেখানে কোনো লয়্যালটি কার্ড, অ্যাপ ডাউনলোড বা ব্যক্তিগত ডেটা শেয়ারের প্রয়োজন হয় না।
কার্যকর সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করার মাধ্যমে আলডি যে দক্ষতার সাথে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখে, সেটিই দীর্ঘমেয়াদে ক্রেতার জন্য বেশি উপকারী। কারণ জ্বালানি বা শ্রমিকের মজুরি বাড়লে সব রিটেইলারই দামের ওপর প্রভাব লক্ষ্য করেন, কিন্তু আলডি বরাবরই সবার জন্য সমমূল্যে পণ্য নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া লয়্যালটি প্রাইসিংয়ের জটিলতায় অনেক বয়স্ক মানুষ বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বৈষম্যের শিকার হন, যা কোনোভাবেই একটি মানবিক রিটেইল ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জাইলস হার্লের আহ্বান বিজ্ঞাপনের দাম হতে হবে বাস্তবসম্মত এবং প্রতারণামূলক চর্চার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হতে হবে দ্রুত। কেবল লেবেলে বড় ছাড়ের শতাংশ দেখালে হবে না, বরং মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কীভাবে একটি পরিবারের সাপ্তাহিক মুদি খরচ সর্বনিম্ন রাখা যায়। যুক্তরাজ্যের সুপারমার্কেটগুলোর উচিত প্রকৃত লয়্যালটি প্রদর্শন করা, যা কোনো স্মার্টফোন বা কার্ডের শর্ত ছাড়াই শেলফে এবং চূড়ান্ত বিলের কাগজে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠবে।
মন্তব্য করুন