সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল আজ ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সবচেয়ে বড় সুখবর পাচ্ছেন ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা, যাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ১ থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকার দুই ধাপের একটি মডেলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী ধাপে ভাতাগুলো পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হবে। তবে বিকল্প হিসেবে তিন ধাপের একটি প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে, যেখানে তিন বছরে পর্যায়ক্রমে মূল বেতন ও ভাতা সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। আইবিএএস সফটওয়্যারে বাস্তবায়নের সুবিধার্থে মূল বেতন একবারে কার্যকর করার বিষয়টিই বর্তমানে আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
পে-স্কেল কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতন হাতে পেতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। কারণ এখনো প্রজ্ঞাপন জারি, ভাতা পুনর্বিন্যাস ও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়া বাকি। সংশ্লিষ্ট সচিব কমিটি বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর পে-কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করছে এবং শীঘ্রই তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
এই বেতন বৃদ্ধিকে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য সময়োপযোগী ও যৌক্তিক বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই এই বেতন বৃদ্ধি তাদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। তবে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি রোধে অধিকতর সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি কমবে এমনটি ভাবার অবকাশ নেই। এর সাথে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা এবং পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ করার পরামর্শ দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, নবম পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার এই উদ্যোগটি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলেও, এর স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়নই এখন সাধারণ জনগণের মূল প্রত্যাশা।
মন্তব্য করুন