মালয়েশিয়ার খাদ্য, উৎপাদন, নির্মাণ ও কৃষি খাতের দীর্ঘদিনের বিদেশি শ্রমিক সংকট নিরসনে দেশটির সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই জটিলতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহেই উপপ্রধানমন্ত্রী ড. আহমদ জাহিদ হামিদির সভাপতিত্বে একটি বিশেষ ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইউনিটি সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল জানিয়েছেন, শিল্প খাতের নিয়োগকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করাই হবে এই বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা। ব্যবসায়ী ও শিল্পমহল সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং তারা আশা করছেন, দ্রুতই একটি টেকসই সমাধান বেরিয়ে আসবে।
মালয়েশিয়ার এই ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রভাব বাংলাদেশের শ্রমবাজারের ওপরও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে, যার সুফল আগামী জুলাই মাস থেকেই দৃশ্যমান হতে পারে। তিনি আরও জানান, জুলাইয়ের মধ্যেই মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সফল হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন শ্রমবাজারের দুয়ার আরও উন্মুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ ক্যাবিনেট কমিটির এই বৈঠক এবং দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক যোগাযোগ কেবল মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক চাকা সচল করবে না, বরং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুযোগের সৃষ্টি করবে। নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি সহজ হলে উৎপাদনমুখী শিল্পখাতগুলোতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সব মিলিয়ে জুলাই মাসের এই সম্ভাব্য অগ্রগতি মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ—উভয় দেশের অর্থনীতি ও জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মন্তব্য করুন