অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে জামায়াত সমর্থিত ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের (এএজি) একযোগে পদত্যাগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক এম বদরুদ্দোজা বাদল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যারা বর্তমান সরকারের অধীনে চার মাস বেতন-ভাতা ও সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, তারা কেন এখন রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করছেন?
বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, সরকার পরিবর্তনের পরপরই সরকারি আইন কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা দীর্ঘদিনের রীতি। অথচ এই কর্মকর্তারা চার মাস কাজ করার পর এখন পদত্যাগ করছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই চার মাসে তারা সরকারের স্বার্থ রক্ষা করেছেন, নাকি কোনো ‘সাবোটাজ’ (রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কাজ) করেছেন তা যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, আপিল সংক্রান্ত মামলাগুলোতে তারা সরকারের পক্ষে কেমন নোট দিয়েছেন, তা গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত।
পদত্যাগকারী কর্মকর্তারা পদত্যাগপত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা ও বিভিন্ন অধ্যাদেশ বাতিলের মতো রাজনৈতিক ইস্যুগুলোকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। তবে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক মনে করেন, সরকার গঠনের পর পরই তাদের পদত্যাগ করা উচিত ছিল। দিনের শেষে সরকারের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেওয়া তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ।
আইন মন্ত্রণালয়ের রদবদল প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই পদত্যাগের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আইন মন্ত্রণালয়ের। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এটি স্পষ্ট যে, তাদের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। আইন মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন