দীর্ঘ ১৯ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে একটি দুর্বল, চাপগ্রস্ত এবং নানা পুঞ্জীভূত সংকটে জর্জরিত অর্থনীতি হাতে পেয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে দলটি, যেখানে মূলত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি থাকছে। এটি গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সশরীরে উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমান মেয়াদের এই প্রথম বাজেটটি উপস্থাপন করবেন। এর আগে অর্থমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেই এবারের সামগ্রিক বাজেটটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জিডিপি ও প্রাইভেট বিনিয়োগের ধীরগতি, ঋণাত্মক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে নেতিবাচক এলসি ওপেনিংয়ের মতো সংকটের মাঝে এই বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ব্যয়ের অর্থ জোগাতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের অর্জিত রাজস্বের চেয়ে প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে এনবিআর থেকে ৬ লাখ ৪path কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল ঘাটতি রাখা হয়েছে, যা পূরণে ব্যাংক খাত থেকেই ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির প্রস্তাব অর্থবিভাগে জমা পড়েছে, যা সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়াবে।
তবে এই পুঞ্জীভূত চ্যালেঞ্জের বিপরীতে জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে বাজেটে বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী ও বৈপ্লবিক উদ্যোগের প্রস্তাব থাকছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন, ব্যবসা সহজ করতে ‘বাংলাবিজ’ নামে সমন্বিত ডিজিটাল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু এবং ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো নতুন উদ্ভাবনী কর্মসূচি যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিপুল পরিমাণ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের কিস্তি এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতের ভর্তুকির চাপ সামলে নতুন সরকার মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।
মন্তব্য করুন