মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণগুলো জেনে নিন।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের কোনো উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে না। তবে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক চাহিদার পূর্বাভাস নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিনিয়োগকারীরা এখন বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ৭ জুলাই ২০২৬ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি থাকলেও তা মূলত পূর্বের সংঘাতকালীন অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মাত্র। এদিন ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ০.৩৯ শতাংশ বেড়ে ৭২.২৯ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ০.২৬ শতাংশ বেড়ে ৬৮.৮৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় তেলের দামে যুক্ত থাকা 'রিস্ক প্রিমিয়াম' বা ঝুঁকির প্রিমিয়াম অনেকটাই কমে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থিরতাপূর্ণ সম্পর্কের কারণে বিনিয়োগকারীরা খুব একটা স্বস্তিতে নেই। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ফের নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক অবস্থা এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের জ্বালানি চাহিদার দিকে বাজারের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।
সরবরাহের দিক থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ওপেক প্লাস। জোটটি আগস্ট মাস থেকে দৈনিক অতিরিক্ত ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে জুন ও জুলাই মাসেও ধারাবাহিক উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। একদিকে সৌদি আরবের মতো বড় উৎপাদক দেশগুলোর এশিয়ান বাজারে তেল বিক্রির মূল্যছাড়, অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ উৎপাদন রেকর্ড,সব মিলিয়ে বাজারে এখন তেলের সরবরাহের প্রাচুর্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই বাড়তি সরবরাহ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দরপতন ঠেকাতে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে আগামী মাসগুলোতে জ্বালানির বৈশ্বিক চাহিদা কতটা বাড়ছে তার ওপর। বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে বাজারের চিত্র বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই লেনদেন করছেন।