ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয় মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে তিন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই পুরো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান-বাজনাকে কেন্দ্র করে। রাতের বেলা বিকট শব্দে গান-বাজনা বন্ধের দাবি জানিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সের গেটে গিয়ে তাঁদের প্রতিবাদ জানান। ওই সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি ও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে উত্তেজিত মাদ্রাসাছাত্ররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুলিশ সদস্য ও মাদ্রাসাছাত্রসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ লাইন্সের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি মাঝপথেই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর এলাকাটিতে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ লাইন্স ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও স্থানীয় মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, অনুরোধ করার পরও উচ্চস্বরে গান-বাজনা চালানো হচ্ছিল, যা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। মানুষকে কষ্ট দিয়ে এমন অনুষ্ঠান করার অনুমতি ইসলাম বা সরকার কেউই কাউকে দেয় না। অন্যদিকে জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কেউ অতিউৎসাহী হয়ে অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। তদন্ত চলাকালে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর বা অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক শান্তি বিনষ্ট না করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন