ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা ওঠার সাথে সাথেই মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নাটকীয়তায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স শিবির। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে বিশ্বমঞ্চের লড়াই শুরু হলেও, মাঠের নামার আগেই ফরাসি ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এখন বিশ্ব মিডিয়ার প্রধান আলোচনার বিষয়।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোর জোরালো দাবি, দলের প্রধান তারকা Kylian Mbappé এবং উদীয়মান উইঙ্গার Michael Olise-এর সাময়িকভাবে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ফুটবলারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও দুজনেই কোচিং স্টাফের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিয়েই ক্যাম্প ত্যাগ করেছিলেন, তবুও বিশ্বকাপের মতো এত বড় টুর্নামেন্টের ঠিক আগমুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তকে দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলার মোটেও ভালোভাবে নেননি। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় পাওয়া প্রীতি ম্যাচের পরেই মূলত ক্যাম্প থেকে এই সাময়িক বিরতি নেন Mbappé ও Olise। এই ঘটনায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ভঙ্গ না হলেও, দলের ড্রেসিংরুমে যে একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট।
এই পুরো পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক Kylian Mbappé। সাম্প্রতিক সময়ে ফরাসি দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও সিনিয়র-জুনিয়রদের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছিল। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এই বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, আইভরিকোস্টের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় মিডফিল্ডার N'Golo Kanté-এর সাথে কোনো রকম শুভেচ্ছা বিনিময় না করেই তাঁকে পাশ কাটিয়ে চলে যান Mbappé।
এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ফরাসি ড্রেসিংরুমের সম্পর্কের উষ্ণতা এবং ফুটবলারদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। তবে দলের ভেতরের এই গুঞ্জন নিয়ে কথা বলেছেন Mbappé নিজেই। এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি তাঁর সতীর্থ Ousmane Dembélé-কে দলের প্রয়োজনে আরও বেশি রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালন এবং দলগত প্রেসিংয়ে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক বিষয়টিকে সাধারণ ফুটবলীয় আলোচনা হিসেবে দেখলেও, বিশ্বকাপের ঠিক আগে ফরাসি শিবিরের এই অশান্তি তাদের মাঠের পারফরম্যান্সে কেমন প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন