মাথায় গুলির ক্ষত ও শরীরে ৩৬টি স্প্লিন্টারের চিহ্ন বয়ে বেড়ানো চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অকুতোভয় যোদ্ধা শেখ আজিজুর রহমান সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আজিজুরের দীর্ঘদিনের একটি লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলো।
সাক্ষাৎকালে জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনে মিরপুর-১০ নম্বর ফ্লাইওভারে মাথায় রক্তক্ষরণ ঠেকাতে যে জাতীয় পতাকাটি তিনি বেঁধেছিলেন এবং যা পরবর্তীতে তাঁর রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, সেই ঐতিহাসিক রক্তমাখা পতাকাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন আজিজুর। সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপরই প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে আজিজুরের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাতের এই ব্যবস্থা করেন।
সাক্ষাতের মুহূর্তটি তুলে ধরে উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে আজিজুরের ভয়াবহ সংগ্রাম, কষ্ট এবং আত্মত্যাগের কথা শোনেন। তিনি কীভাবে আহত হন, তাঁর পড়াশোনা, সিএনজি চালিয়ে শিক্ষাজীবনের খরচ চালানোর সংগ্রাম এবং বর্তমান শারীরিক চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন। আজিজুরের কঠোর জীবনসংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং ব্যথিত হন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার অনুভূতির কথা জানিয়ে শেখ আজিজুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। আমার কষ্টের কথা তিনি নিজে শুনেছেন এবং খোঁজখবর নিয়েছেন। এটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। এই রক্তমাখা পতাকাটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা আমার বহুদিনের ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
উল্লেখ্য, শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তাঁর বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মিরপুর-১০ নম্বর ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে মারাত্মক আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে তিনি জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধেছিলেন, যে কারণে পতাকাটি তাঁর রক্তে রঞ্জিত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ১৯ জুলাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই তিনি মুক্তি পান। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দীর্ঘ দুই বছর জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত থাকলেও জীবনসংগ্রামের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগে আজিজুরের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের পথ সুগম হলো।
মন্তব্য করুন