আধুনিক পৃথিবীতে আমরা সফলতার মাপকাঠি হিসেবে সাধারণত বড় বাড়ি, বিলাসিতা কিংবা সামাজিক প্রতিপত্তিকে প্রাধান্য দিই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রচুর সম্পদ থাকার পরেও মনে প্রশান্তি নেই, আবার অন্যদিকে সীমিত আয়েও মানুষ পরিপূর্ণ তৃপ্তিতে বসবাস করছে। ইসলামের ভাষায় এই অদৃশ্য কল্যাণ ও স্থায়ী মঙ্গলের নামই হলো ‘বরকত’। বরকত হলো সেই মহান নিয়ামত, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উপকারিতা বৃদ্ধি করে এবং অল্প সম্পদকেও যথেষ্ট করে তোলে।
বরকতের বাস্তব ও উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ: বরকতের পরিধি শুধু অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জীবনের প্রতিটি স্তরে অনুভূত হয়। সুস্থতা ও দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য বরকতের একটি বড় নিদর্শন, যার মাধ্যমে মানুষ ডাক্তারের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়াই জীবন উপভোগ করতে পারে। তেমনি, জিনিসপত্রের দীর্ঘস্থায়িত্ব বা অল্প আয়ে সংসারের প্রয়োজন সুন্দরভাবে মেটে যাওয়াও আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকতের বহিঃপ্রকাশ। আল-কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ঈমান ও তাকওয়া অবলম্বন করলে আল্লাহ আসমান ও জমিনের বরকতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন (সুরা আল-আ’রাফ: ৯৬)।
পারিবারিক প্রশান্তি এবং সৎ ও বিশ্বস্ত মানুষের সান্নিধ্যও জীবনের অমূল্য বরকত। অনেক বড় পরিবার বা সম্পদশালী জীবনে অশান্তি থাকলেও, অল্প সম্পদে যারা আল্লাহর স্মরণ ও আনুগত্য বজায় রাখে, তাদের অন্তরেই প্রকৃত শান্তি বিরাজ করে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী, প্রকৃত ধন-সম্পদ অঢেল সম্পত্তির মধ্যে নয়, বরং ‘অন্তরের প্রাচুর্যের’ (গিনা আন-নাফস) মধ্যেই নিহিত। যা মানুষের ভেতরে তৃপ্তি এবং সহজতা তৈরি করে।
বরকত লাভের চাবিকাঠি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করা। জীবন যখন ইবাদত, তাকওয়া ও আল্লাহর কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ থাকে, তখন সময় ও সম্পদের বরকত বেড়ে যায়। আমরা যেন শুধু বস্তুগত সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে না ছুটে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বরকত লাভের চেষ্টা করি। কারণ, বরকতহীন অনেক কিছু থাকার চেয়ে বরকতময় অল্প কিছু অনেক বেশি কল্যাণকর।
মন্তব্য করুন