সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেলে মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের আর্থিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সামগ্রিক বাজেটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
যেসব ভাতার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের আলোচনা চলছে:
বাড়িভাড়া ভাতা: বর্তমানে মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া দেওয়া হয়। মূল বেতন বাড়লে এই হারে ভাতা দিলে সরকারি ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পাবে। তাই এই শতাংশ কমিয়ে একটি যৌক্তিক পর্যায়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে।
চিকিৎসা ভাতা: সব গ্রেডের জন্য বর্তমানে নির্ধারিত ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতার হার পুনর্নির্ধারণ বা নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
শিক্ষা সহায়ক ভাতা: দুই সন্তানের জন্য দেওয়া এই ভাতার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে।
যাতায়াত ভাতা: নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতা এবং কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সুবিধা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অপ্রাসঙ্গিক ভাতা: বর্তমান প্রেক্ষাপটে গুরুত্বহীন বা অকার্যকর হয়ে পড়া কিছু ছোটখাটো ভাতা পুরোপুরি বিলোপ করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত সচিব কমিটি জানিয়েছে, বেতন বৃদ্ধির সাথে সাথে জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও সেবার মান বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন অর্থবছর থেকেই নতুন এই পে স্কেল কার্যকরের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে বাজেটে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং ভাতার প্রকৃত হার গেজেট প্রকাশের পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মন্তব্য করুন