বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট না করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার রূপরেখা কেমন হবে, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা খুব শীঘ্রই জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়ন সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিগত স্বৈরাচারী আমলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে গুটিকয়েক ব্যক্তির ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বার্থে সেই খাতকে নতুনভাবে সাজাতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন, আর বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে সেই কার্যক্রমে হাত দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা এবং বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানবাহনের গ্যাস সংকট নিরসনেও কাজ চলছে বলে তিনি জানান। এছাড়া আনোয়ারায় চীনকে একটি বড় এলাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে কয়েকশ মিল-কারখানা স্থাপিত হলে সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।
চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এর আওতায় বাঁশখালী উপজেলার ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই সুবিধা পাবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’-এর সুব্যবস্থা করা হয়েছে, যার সুফল শুধু সাধারণ কৃষকরাই নন, বরং লবণচাষিরাও লাভ করবেন। লবণচাষিদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে খুব শীঘ্রই সরকার নির্ধারিত দাম ঘোষণা করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। এছাড়া জনসেবা বাড়াতে স্থানীয় উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থ পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন