পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আসন্ন আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলা তীব্র সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় পুরো অঞ্চলজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষা বিভাগের কর্মী নাকাশ জারদাদের মতো সাধারণ মানুষও যখন রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির বলি হন, তখন নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংকটের চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্থানীয় অধিকারকর্মী গোষ্ঠীগুলোর জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) লংমার্চ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে ৩৪ জনই বিক্ষোভকারী এবং বাকি ছয়জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
এই সহিংসতার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৯৭০-এর দশক থেকে চলে আসা শরণার্থী আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিতর্ক। ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে এসে বসতি গড়া শরণার্থীদের জন্য স্থানীয় আইনসভার ৫৩টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। জেএএসির মূল দাবি হলো, এই সংরক্ষিত আসনগুলো বাতিল করা হোক, কারণ যাঁদের জন্য এগুলো রাখা হয়েছে তাঁদের অনেকেই ওই অঞ্চলে বসবাস করেন না, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এই দাবিতে জেএএসি আন্দোলন গড়ে তুললে সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে এবং কঠোর অভিযান পরিচালনা করে, যা পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নির্বাচনের আগে প্রাদেশিক রাজধানী মুজাফফরাবাদসহ পুরো অঞ্চলে ভয় ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রার্থীদের প্রচারণার গাড়ি ও সম্পত্তিতে হামলার ঘটনার কারণে প্রার্থীরা জনসভার পরিবর্তে ঘরোয়া সমাবেশ ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালাতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে পাকিস্তান সরকার তিন ধাপে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তে অচল রয়েছে এবং কাশ্মীরবিষয়ক মন্ত্রী আমির মুকাম একেই একমাত্র সমাধান বলে মনে করছেন। তবে বিরোধীদের কেউ কেউ ইন্টারনেট ও মুঠোফোন সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ রাখাকে পুরো জনগোষ্ঠীর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন। ইতিমধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান সব মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভারতের প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো পরিস্থিতির একটি সোহার্দ্যপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন