ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে একটি সরকারি কার্যালয় চত্বরে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সর্বভারতীয় মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সভাপতি ও হায়দ্রাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের কথা বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যা উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক জোরালো বার্তায় আসাদউদ্দিন ওয়াইসি অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ও বেছে বেছে কেবল মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংবিধানে দেশের সব নাগরিকের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতার যে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সেই অধিকার কি মুসলমানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়? ১৯১১ সালের ঐতিহাসিক নথিপত্রের কথা উল্লেখ করে ওয়াইসি দাবি করেন, সাহারানপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নির্মাণের অনেক আগে থেকেই ওই স্থানে মসজিদটির অস্তিত্ব ছিল। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসায় মসজিদটি ওয়াক্ফ হিসেবে আইনি সুরক্ষা পাওয়ার দাবি রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদি দখলের ভিত্তিতেও এর আইনি অধিকার তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া মসজিদ কর্তৃপক্ষকে উচ্চতর আদালতে আপিল করার মতো ন্যায্য আইনি সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি করে তা ভেঙে ফেলা হয়েছে অভিযোগ করে একে স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, সাহারানপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মসজিদটি প্রায় ৩১৫ বর্গমিটার সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে নির্মিত হয়েছিল এবং আদালতের নির্দেশ মেনেই সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে গত জুলাই মাসে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে মসজিদ সরানোর পাশাপাশি প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জেলা আদালতে আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে সাহারানপুরের এই মসজিদ ভাঙার ঘটনা এবং ওয়াইসির তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া যে রাজ্যটির রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ ও উত্তাপ ছড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।
মন্তব্য করুন