মিয়ানমারের ভূখণ্ডে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাত ১২টা ২০ মিনিটে দেশটির উত্তরাঞ্চলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর ঠিক একদিন আগে, শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মিয়ানমার।
এনসিএস জানিয়েছে, শনিবারের ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৯০ কিলোমিটার গভীরে। এর আগের দিনের ৪ দশমিক ৫ মাত্রার কম্পনটি ছিল ভূগর্ভের প্রায় ১০০ কিলোমিটার গভীরতায়। পরপর দুই দফার এই ভূমিকম্পে মিয়ানমারের কোনো অঞ্চলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পবিদদের মতে, মিয়ানমারের ভৌগোলিক অবস্থান ভূমিকম্পের দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল। দেশটি মূলত ভারতীয়, ইউরেশীয়, সুন্দা এবং বার্মা এই চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। টেকটোনিক প্লেটগুলোর এই মিলনস্থলে ভূগর্ভস্থ সক্রিয়তা সবসময়ই বেশি থাকে, যার ফলে দেশটিতে মাঝেমধ্যেই মাঝারি ও বড় মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞেরা দীর্ঘকাল ধরেই মিয়ানমারের এই উপকূলরেখা বরাবর ভূমিকম্প এবং সুনামির উচ্চ ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে আসছেন।
মিয়ানমারের স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এই ধরনের ঘনঘন ভূমিকম্প দেশটির জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এ ধরনের ভৌগোলিক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
মন্তব্য করুন