ইউরোপের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি জার্মানি বিশ্বের ৬২টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ছাড়াই দেশটিতে প্রবেশের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। এই সুবিধার আওতায় উক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত পর্যটন, ব্যবসায়িক বৈঠক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে জার্মানিতে অবস্থান করতে পারেন। তবে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের নাম নেই। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আগের মতোই কঠোর নিয়ম মেনে শেনজেন ভিসা সংগ্রহ করেই জার্মানিতে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।
জার্মানির ভিসামুক্ত এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো। তালিকার দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য এই সুবিধা থাকলেও এটি কেবল স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণের জন্যই প্রযোজ্য। অর্থাৎ, এই সুযোগে কোনো ব্যক্তি জার্মানিতে চাকরি বা দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের অনুমতি পাবেন না। শুধুমাত্র পর্যটন বা স্বল্প মেয়াদে ব্যবসায়িক কাজে এই সুবিধা ভোগ করা সম্ভব। অন্যদিকে, বাংলাদেশ তালিকার বাইরে থাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জার্মানিতে প্রবেশের জন্য শেনজেন ভিসা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব আইনি নিয়ম পালন করতে হয়।
জার্মানিতে প্রবেশের জন্য ভিসা আবেদন করতে হলে যথাযথ নথিপত্রসহ আবেদন জমা দেওয়া এবং ভিসার ধরন অনুযায়ী সাক্ষাৎকার বা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যারা পর্যটন বা পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য জার্মানি যেতে চান, তাদের সফরের বেশ আগে থেকেই দূতাবাসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া ও ভিসা পাওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জার্মানি তাদের ভিসা নীতিতে বেশ কড়াকড়ি বজায় রাখে, তাই আবেদনের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ কাগজপত্র এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ভিসা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য সবসময় জার্মান দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত চেক করা উচিত যাতে ভ্রমণের পরিকল্পনা বাধার মুখে না পড়ে।
মন্তব্য করুন