দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে চলমান সংঘর্ষে চার ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির. এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) অত্যন্ত বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন তিনি. শুক্রবার (১৯ জুন) দেওয়া এক পোস্টে বেন গাভির বলেন, একজন ইসরাইলি মায়ের প্রতিটি অশ্রুর বদলে হাজারো লেবাননি মায়ের চোখে পানি ঝরতে হবে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো লেবানন পুড়ে যাক. অন্য দিকে, ইসরাইলের এই আক্রমণাত্মক ও কূটনৈতিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ. তাঁর মতে, বর্তমান সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে বিশ্বমঞ্চে ইসরাইলের বৈদেশিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই ইসরাইলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির স্পষ্ট করেন যে, ইসরাইলি সন্তানদের রক্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা কোনো দরকষাকষির বিষয় নয়. তিনি পরিষ্কার ভাষায় এক্সে লিখেছেন, ‘পুরো লেবানন পুড়ে যাক’. বেন গাভিরের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে কখনোই জয়ী হওয়া সম্ভব নয়. তাঁর ভাষায়, সন্ত্রাসবাদকে পুরোপুরি চূর্ণ করতে হলে কঠোর ও সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই.
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের কূটনৈতিক নীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ. এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ ও তিক্ত হয়ে উঠছে. বিগত একদিনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসরাইলের স্মোটরিচ ও বেন গাভিরকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন. এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও মন্তব্য করেছেন যে নেতানিয়াহু লেবানন ইস্যুতে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছেন. লাপিদ সতর্ক করে বলেন, এই সরকারকে দ্রুত পরিবর্তন করা না গেলে ইসরাইলের বৈদেশিক সম্পর্ক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে. এই বৈরী কূটনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতা বৈঠকটি বাতিল করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স.
শুক্রবার ভোররাত থেকে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহসহ আশপাশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে সাম্প্রতিক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ভারী বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী. লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তীব্র বোমাবর্ষণের কারণে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ১৮ জন নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছেন. যদিও ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার জবাব দিতেই হিজবুল্লাহর সদস্য ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে. অন্য দিকে, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহের পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় অগ্রসরমান ইসরাইলি বাহিনীর ওপর তারা সফল অতর্কিত হামলা চালিয়েছে. নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রের (গাইডেড মিসাইল) মাধ্যমে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরাইলের তিনটি বাঘমার্কা মারকাভা ট্যাংক ধ্বংস করেছে এবং রকেট ও গোলন্দাজ হামলা চালিয়েছে, যার ফলে চার ইসরাইলি সেনা নিহত হয়.
মন্তব্য করুন