পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত নারী বিষয়ক নবম ওআইসি মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন পথ উন্মোচন করলেন বাংলাদেশের মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের সাইডলাইনে তিনি ইরানের নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহরা বেহরুজ আজারের সঙ্গে এক ফলপ্রসূ বৈঠকে মিলিত হন। জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে নারীদের জন্য সম্প্রতি চালু হওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ সাধারণ নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি শিক্ষা ও নারী-শিশু উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহরা বেহরুজ আজার নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি গত কিছুদিন আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া বৈঠকে শিক্ষা ক্ষেত্রে ইরানের নারীদের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয় এবং মুসলিম উম্মাহর নারীর উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করা হয়।
পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের মন্ত্রীকে ইরান সফরের আমন্ত্রণ জানান। এই বৈঠকটি কেবল দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ককেই সুদৃঢ় করেনি, বরং নারী উন্নয়ন ও মানবিক সমাজ গঠনে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান।
মন্তব্য করুন