পরীক্ষার্থীদের কাছে ডিএসই বা হংকং ডিপ্লোমা অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন মানেই এক ভীষণ চাপের নাম। বিশেষ করে সায়েন্স বা ম্যাথের মতো বিষয়গুলোতে ভালো ফল করতে অনেকেই হিমশিম খান। তবে একটু কৌশলী হলে এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই কঠিন বিষয়গুলোকেই সহজে হাতের মুঠোয় আনা সম্ভব। সম্প্রতি ডেসটিনি বা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন কিছু অসাধারণ পরীক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প ও তাদের দুর্দান্ত কিছু কৌশল সামনে এসেছে, যা যেকোনো শিক্ষার্থীর প্রস্তুতিতে নতুন দিশা দেখাতে পারে।
অনেকেরই ধারণা, সায়েন্সের বিষয় মানেই রাত জেগে ফর্মুলা মুখস্থ করা। কিন্তু যারা এই কঠিন পরীক্ষাগুলোতে শীর্ষ ফলাফল অর্থাৎ ফাইভ স্টার অর্জন করেছেন, তাদের মতে মুখস্থ বিদ্যার দিন এখন আর নেই। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন কিংবা জীববিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোতে ভালো করতে হলে সবার আগে মূল কনসেপ্ট বা বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলো পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। শুধু মুখস্থ করে পরীক্ষার হলে গিয়ে নতুন বা ঘুরিয়ে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। পরীক্ষকরা খাতা দেখার সময় নির্দিষ্ট কিছু শব্দের উপস্থিতি খোঁজেন, তাই বিগত বছরের প্রশ্ন ও মার্কিং স্কিম ভালো করে ঘেঁটে মূল কি-ওয়ার্ডগুলোর ব্যবহার আয়ত্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
পড়াশোনার সময় শুধু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই নিয়ে বসে থাকলেই চলে না, বরং কতটা মনোযোগ দিয়ে পড়া হলো সেটাই আসল কথা। অনেক শিক্ষার্থী একটানা পড়তে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং পড়ার মান কমে যায়। এর চেয়ে পড়ার সময় ছোট ছোট বিরতি নেওয়া অনেক বেশি কার্যকর। প্রতিটি পড়ার সেশনের পর সামান্য বিরতি নিয়ে একটু হেঁটে আসা বা খোলা বাতাসে সময় কাটালে মস্তিষ্ক তরতাজা থাকে। এছাড়া পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে মানসিক শান্তি বজায় রাখা এবং সঠিক সময়ে ঘুমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম কম হলে পরীক্ষার হলে জানা জিনিসও ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
শুধু বই বা গাইড পড়ে যাওয়া নয়, বর্তমান যুগে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারও সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী এখন এআই টুলস বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের মক টেস্টের খাতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করিয়ে নেন এবং ভুলগুলো শুধরে নেন। নিজেরা নিজেদের জন্য ছোট ছোট প্রশ্নপত্র তৈরি করে বা বন্ধুদের সঙ্গে গ্রুপ স্টাডি করে কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করাও বেশ ফলপ্রসূ হয়। পরীক্ষার আগের শেষ মুহূর্তে ঘাবড়ে না গিয়ে নিজের ওপর আস্থা রাখা এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হলো ডিএসইর মতো বড় পরীক্ষায় সফল হওয়ার মূল মন্ত্র।
মন্তব্য করুন