ভারত ও বাংলাদেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই দুই দেশের মধ্যকার সকল জটিল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি মনে করেন, উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীই সাধারণ মানুষের খুব কাছের মানুষ এবং তাঁদের পারস্পরিক সংলাপই সব সংকটের দ্রুত অবসান ঘটাতে পারে।
গত রোববার দুপুরে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) শিশুদের জন্য একটি বিশেষ বিনোদন ও খেলাধুলার জায়গার উদ্বোধন করার পর গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং তাঁর বক্তব্যে মানুষের মনের কথা ফুটে ওঠে। দুই দেশের জননেতারা আলোচনা করলে যেকোনো অমীমাংসিত বিষয়ের সুরাহা হবেই বলে তিনি পূর্ণ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছু টানাপড়েন চললেও হাইকমিশনার এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার ওপর জোর দেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি আসার আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে এর মধ্যেই দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে কিছুটা অস্বস্তি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
দিল্লিতে পলাতক ও দণ্ডিত কোনো আসামিকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল ঢাকা। অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বারবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে ওই বেসরকারি আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থন ছিল না। এই কূটনৈতিক জটিলতার মাঝেই ভারতীয় হাইকমিশনারের এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন দীনেশ ত্রিবেদী। এছাড়া আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাতের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে।
ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের বিষয়ে হাইকমিশনার জানান যে, গত জুন মাসে আইভ্যাক পরিদর্শনের সময় এক মায়ের করা অনুরোধের প্রেক্ষিতে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শিশুদের খেলাধুলার এই সুন্দর জায়গাটি তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সাথে সাধারণ মানুষের আত্মিক ও সুদৃঢ় সম্পর্কের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষই মূলত সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশা করে। এছাড়া ভারতীয় ভিসার অতিরিক্ত চাহিদা মেটানোর জন্য হটকারী কোনো বড় পদক্ষেপ না নিয়ে ধীরে ধীরে পরিকাঠামো ও সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। বিশেষ করে চিকিৎসা প্রার্থী, নারী ও শিশুদের ভোগান্তি কমাতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন