বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গত দুই বছর ধরেই নানা কারণে কিছুটা নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে গত বছর আইপিএল থেকে তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে হঠাৎ বাদ দেওয়ার পর দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের পারস্পরিক সম্পর্কের টানাপড়েন আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। যার সরাসরি বিরূপ প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভবিষ্যৎ সফরসূচি বা এফটিপি (FTP) অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোর ওপরও।
আইসিসির নির্ধারিত এফটিপি অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের। তবে সেই সময় বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত অজুহাত দেখিয়ে সফরটি এক বছর পিছিয়ে চলতি বছরের অর্থাৎ ২০-২৬ সালের আগস্টে পুনর্বিন্যাস করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সংশোধিত এই নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হলেও তা নিয়ে এখনো পুরোপুরি অনিশ্চয়তা কাটেনি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পক্ষ থেকেও এই হাই-ভোল্টেজ সিরিজটি নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
স্বনামধন্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ তাদের একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসার বিষয়ে এবার কেবল একা বিসিসিআই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। এই সফরের জন্য ভারতীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও সবুজ সংকেতের প্রয়োজন রয়েছে। এই কারণে খুব শীঘ্রই বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে দেশটির সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।
বিসিসিআইয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র ‘ইন্ডিয়া টুডে’কে জানিয়েছে যে, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে পর্দার আড়ালে কাজ চলছে এবং খুব দ্রুতই সফরের সরকারি অনুমোদনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পেশ করা হবে। তবে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, কারণ বোর্ড এককভাবে এই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থানে নেই।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বিসিসিআইকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সিরিজটি সফলভাবে আয়োজন করার জন্য দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে যে, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে একটি পরিষ্কার ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চলে আসবে।
বিসিবির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত নতুন সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৯ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুই দেশের মধ্যকার এই পূর্ণাঙ্গ সিরিজটি আয়োজনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত এই সফর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ মাটিতে পা রাখার কথা রয়েছে ভারতীয় দলের। এরপর যথাক্রমে আগামী ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক বা ওয়ানডে ম্যাচ এবং পরবর্তী সময়ে ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর মোট তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত এই সূচি অনুযায়ী সিরিজটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ, শেষ পর্যন্ত ভারত সরকারের ইতিবাচক অনুমোদন এবং তাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনার ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করছে টিম ইন্ডিয়ার বাংলাদেশ সফর।
মন্তব্য করুন