ইরানের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডার আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর জোর তাগিদ দিয়েছে পেন্টাগন। বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেন্টাগনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফাইনবার্গ দেশটির প্রধান প্রতিরক্ষা শিল্পপতিদের কাছে একটি কড়া নির্দেশ সংবলিত চিঠি প্রেরণ করেছেন। ওই চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন অস্ত্র উৎপাদন এবং দ্রুত সরবরাহের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ২১ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
স্টিভ ফাইনবার্গ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, গত বহু বছর ধরে চলে আসা মন্থর ও পুরোনো উন্নয়ন প্রক্রিয়া বর্তমান যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে আর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা উপযোগী নয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে প্যাট্রিয়ট এবং থাড-এর মতো অত্যাধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরগুলোর ব্যাপক ব্যবহার হওয়ায় মার্কিন বাহিনীর হাতে থাকা এই অস্ত্রের মজুদ কমপক্ষে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান এই বড় ধরনের ঘাটতি কেবল মার্কিন বাহিনীকেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রধান মিত্রদের আকাশ নিরাপত্তাকেও অত্যন্ত মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এক পরিস্থিতির মুখে ফেলে দিয়েছে।
তবে পেন্টাগনের এই উদ্বেগের বিপরীত সুর শোনা গেছে হোয়াইট হাউসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ত্র ঘাটতির এই উদ্বেগজনক প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র মজুদ রয়েছে এবং দেশের ইতিহাসের এই মুহূর্তে সর্বকালের সর্বোচ্চ সংখ্যক কারখানায় অস্ত্রের উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধির এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তটি তাদের আসন্ন ২০২৮ সালের প্রতিরক্ষা বাজেটেও সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে মার্কিন কংগ্রেসে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলায় এবং পর্যাপ্ত তহবিল ও নতুন ক্রয় চুক্তি থাকা সত্ত্বেও দেশের অস্ত্রভাণ্ডারকে পুরোপুরি যুদ্ধপূর্ব নিরাপদ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত তিন বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে কড়া সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
মন্তব্য করুন