|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নিয়োগের নতুন শর্তে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্টের রায়

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকালীন বলবৎ থাকা বিধিমালা উপেক্ষা করে পরবর্তীতে তৈরি করা কোনো নতুন শর্ত বা বিধি পূর্ববর্তী সময় থেকে কার্যকর দেখিয়ে শিক্ষকদের আইনগত ও অর্জিত অধিকার থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত করা যাবে না বলে অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুদূরপ্রসারী রায় প্রদান করেছেন হাইকোর্ট। এমপিও সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে চার শিক্ষকের করা একটি রিট মামলার প্রাথমিক রুল যথাযথ ঘোষণা করে আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

‘মো. আবু হানিফ ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য’ শিরোনামের এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। গত ৩০ জুন বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার এবং বিচারপতি উর্মী রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। আলোচিত এই মামলার মূল রায়টি রচনা করেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি উর্মী রহমান। আইনি লড়াইয়ে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে শুনানিতে অংশ নেন মো. আতাউর রহমান, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম অলি ও মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন বলবৎ থাকা প্রবিধান (রেগুলেশন ২০১৫) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজি মোজাম্মেল মহিলা কলেজে অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইংরেজি ও সমাজকল্যাণ বিভাগে প্রভাষক বা তৃতীয় শিক্ষক হিসেবে মো. আবু হানিফসহ চারজন শিক্ষক ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর বৈধভাবে নিয়োগ পান। এর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর তাঁরা স্ব স্ব পদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া পেরিয়ে ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বের নীতিমালা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের পূর্বে এনটিআরসিএ পরিপত্র জারি হওয়ার আগে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত এবং ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছিল। সেই নিয়ম মেনেই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক প্রকাশিত ৭২৬ জন শিক্ষকের চূড়ান্ত তালিকায় এই চার শিক্ষকের নামও সফলভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে একেবারে শেষ পর্যায়ে অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের এমপিও আবেদন এই বলে পুরোপুরি নামঞ্জুর করা হয় যে তাঁদের কাছে ‘এনটিআরসিএ (NTRCA) সনদ’ নেই। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের এই খেয়ালী ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের বৈধতাকে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ওই চার শিক্ষক উচ্চ আদালতে রিট আবেদন দায়ের করতে বাধ্য হন।

মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ নথিপত্র ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক বা দাপ্তরিক প্রয়োজনে যেকোনো সময় চাকরির বিধিমালা পরিবর্তন বা পরিমার্জন করার পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে, তবে সেই পরিবর্তিত নিয়ম কোনোভাবেই অতীতে চাকরিতে যোগদানকারী কোনো কর্মচারীর ইতোমধ্যে অর্জিত বৈধ অধিকারকে খর্ব বা ক্ষুণ্ন করতে পারে না।

নিয়োগকালীন প্রবিধানের প্রাধান্য ও কার্যকারিতার বিষয়টি তুলে ধরে আদালত রায়ে আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, ২০১৫ সালে যখন এই চার শিক্ষককে বৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন বিধিমালায় এনটিআরসিএ সনদের কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা বা শর্ত ছিল না। ডিগ্রি বা পাস পর্যায়ের কলেজ শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই এনটিআরসিএ সনদের বাধ্যতামূলক শর্তটি সর্বপ্রথম ২০১৯ সালের নতুন প্রবিধানে জারি করা হয়েছিল। ফলে নিয়োগের বহু পরে প্রণীত আইন পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর দেখিয়ে শিক্ষকদের বঞ্চিত করার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

রাষ্ট্রপক্ষের করা এই দাবির জবাবে যে তৃতীয় শিক্ষক পদটি জনবল কাঠামোয় নেই, আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে সরকার নিজেই একাধিক সরকারি পরিপত্রের মাধ্যমে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও সুবিধার ঐতিহাসিক ও বাস্তবসম্মত আওতায় আনার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে রাষ্ট্রপক্ষের এই অযৌক্তিক দাবির কোনো ধরনের আইনি ভিত্তি বা স্থায়িত্ব থাকতে পারে না।

আদালত আরও জোরালোভাবে বলেন যে, এমপিও মঞ্জুর করার বিষয়টি সরকারের নিজস্ব নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় হতে পারে, তবে তা যদি কোনো ধরনের যুক্তিসংগত আইনি ভিত্তি ছাড়া একান্তই খেয়ালখুশিমতো বা স্বেচ্ছাচারী উপায়ে প্রয়োগ করা হয়, তবে তা বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সরাসরি বিচার্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

মামলার চূড়ান্ত রায়ে হাইকোর্ট এনটিআরসিএ সনদ না থাকার অজুহাত দেখিয়ে ওই চার প্রভাষকের এমপিও আবেদন প্রত্যাখ্যান করার অনলাইন সিদ্ধান্তটিকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করে তা বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে রিটকারী ওই চার শিক্ষকের নাম নিয়মিত মান্থলি পে অর্ডার বা এমপিও তালিকায় অবিলম্বে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিবাদীদের প্রতি কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য সকল বকেয়াসহ যাবতীয় আর্থিক সুবিধাদি যথাযথভাবে হিসাব করে চার রিটকারী শিক্ষককে পরিশোধ করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিবাদীর প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডা. তাসনিম জারার ফেসবুক পোস্ট: হামের প্রাদুর্ভাব ও অপপ্রচারে

1

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার: আনোয়ার ইব

2

বিহারে মিলল ৭০০ বছরের প্রাচীন বটগাছ: নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ

3

১৮ বছর বয়সেই প্রফেসর! গিনেস বুকে নাম লিখিয়ে তাক লাগালেন মার্

4

টানা ১১ বছর এসএসসিতে পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা

5

ঢাকা কলেজে ছাদের পলেস্তারা খসে আহত শিক্ষার্থী: হল সংস্কারে দ

6

ফিফার বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ মিশরের কোচের

7

হরমুজ প্রণালিতে ট্রাম্পের মাশুল আরোপের পরিকল্পনাকে ‘জলদস্যুত

8

Bangladesh vs Australia Live Score & Prediction: ৩য় টি-টোয়

9

৫০ হাজার বিক্রির মাইলফলক স্পর্শ: টাটা সিয়েরার নতুন জুবিলি এড

10

এবার ইরানে পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের ঝুঁকি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

11

বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’: হাসনাত আব্দুল্লাহর কড়

12

বেনজীরকে দ্রুত ফেরানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

13

লারা-যুবরাজের মতো ম্যাচ জেতাতে চান বৈভব: লক্ষ্য রাজস্থানকে চ

14

চোরাচালান রোধ ও যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে বিজিবির ব্যতিক্

15

বৃষ্টিতে ভিজলেই কি সর্দি-জ্বর হয়? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

16

রাজশাহীতে শুরু হয়েছে টিসিবির জুলাই মাসের পণ্য বিক্রি

17

পিরোজপুরের কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচ ৩৫০ টাকা কেজি, চড়া মাছ ও ডি

18

দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন ও পরবর্তী আইনি প

19

৬৪ সেকেন্ডে রেকর্ড গোল, ১০ জনের প্যারাগুয়ের জয়

20