ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ দীর্ঘ সময় ধরে আহমাদিনেজাদকে নিজেদের গোপন সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলেছিল। উদ্দেশ্য ছিল, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে তাকে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় বসানো। এক সময় ইসরাইলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দেওয়া এই নেতার সাথেই মোসাদের এই গোপন আঁতাত ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গোপন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেশ কিছু নাটকীয় ধাপ পার করেছিল ইসরাইল। ২০২৪ সালে বুদাপেস্টে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনের আড়ালে মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার সাথে আহমাদিনেজাদের বৈঠকের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার বিদেশ ভ্রমণ ও আবাসনের যাবতীয় খরচও বহন করত ইসরাইল। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে ইসরাইলি বিমান হামলার সময় এটি কেবল একটি সামরিক আক্রমণ ছিল না, বরং তা ছিল আহমাদিনেজাদকে উদ্ধার করে একটি সেফ হাউজে নিয়ে যাওয়ার একটি গোপন অভিযান। তবে এই উদ্ধারের ধরন ও ইসরাইলি হস্তক্ষেপের কারণে আহমাদিনেজাদ নিজেই ক্ষুব্ধ হন এবং পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পর পর তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই বর্তমান শাসনব্যবস্থার ওপর চরম বিরক্ত ছিলেন আহমাদিনেজাদ। নিজেকে রাশিয়ার বরিস ইয়েলতসিনের মতো একজন ‘সংস্কারক’ হিসেবে কল্পনা করতেন তিনি। তার ইচ্ছা ছিল, ক্ষমতায় গিয়ে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের আওতায় ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবেন এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করবেন। কিন্তু এই উচ্চাভিলাষই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ইসরাইলের সাথে তার এই গোপন যোগাযোগের তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট চারজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার তথ্যমতে, বর্তমানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখার কড়া নজরদারিতে গৃহবন্দি রয়েছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। গত সপ্তাহে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অত্যন্ত সতর্ক ও বিষণ্ণ অবস্থায় তার উপস্থিতি ছিল এই সংকটেরই ইঙ্গিত। ইরানের রাজনীতিতে একসময়ের দাপুটে এই নেতা এখন নিজেরই দেশের গোয়েন্দাদের হাতে বন্দি হয়ে অস্তিত্বের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
মন্তব্য করুন