ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক—উভয় দিক থেকেই উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি। তার সুনির্দিষ্ট দাবি, বর্তমান প্রশাসনের ভুল ও একপেশে নীতির কারণে দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি অত্যন্ত কড়া ও সমালোচনামূলক পোস্টে থমাস ম্যাসি লিখেছেন যে, ইরানের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সামগ্রিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাবে দেশের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে, জরুরি জ্বালানির সংরক্ষিত মজুত হ্রাস পেয়েছে, অসংখ্য সাহসী সামরিক সদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে, সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য ভোক্তা পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং এর জেরে জাতীয় ঋণের পাহাড় আরও বেশি ভারী হয়েছে।
মার্কিন এই আইনপ্রণেতা আরও খোলামেলাভাবে মন্তব্য করেন যে, প্রশাসন দেশের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন ও জনস্বার্থকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে সমস্ত পদক্ষেপ কেবল বিদেশি রাষ্ট্রের স্বার্থে পরিচালনা করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসন তাদের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় নিঃশেষ করে ফেলেছে, তেলের রিজার্ভ কমিয়েছে, দেশের নারী ও পুরুষ সেনাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, পণ্যের দাম ও ঋণ বাড়িয়ে দেশের ভেতরের দাবিগুলো অবহেলা করেছে—য যার পেছনে একমাত্র উদ্দেশ্য হিসেবে কাজ করেছে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকান দলের এই প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার এমন মন্তব্য বর্তমান প্রশাসনের চলমান মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান নীতির বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত জোরালো ও প্রকাশ্য সমালোচনা। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিদেশে অপ্রয়োজনীয় সামরিক হস্তক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতে মার্কিন করদাতার অর্থ ও সম্পদের অপচয় নিয়ে কঠোর আপত্তি ও দ্বিমত পোষণ করেছিলেন তিনি। তবে কংগ্রেসম্যান ম্যাসির তোলা এসব গুরুতর অভিযোগ এবং মন্তব্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউজ বা ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
মন্তব্য করুন