দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি ‘মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড’-এ আবারও শুরু হয়েছে পাথর উত্তোলন। দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর শনিবার (১১ জুলাই) সকালের শিফট থেকে খনির কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। থাইল্যান্ড থেকে প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক দ্রব্য (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) এসে পৌঁছানোর ফলে এই উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত বিস্ফোরকের তীব্র সংকটের কারণে গত ১৯ মে থেকে খনিটিতে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এখন নতুন চালান আসায় খনি কর্তৃপক্ষ পাথর উত্তোলনের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে খনির ব্যবস্থাপনা ও পাথর উত্তোলনের দায়িত্বে রয়েছে আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি (GTC) এবং কারিগরি পরামর্শক হিসেবে সহযোগিতা করছে বেলারুশের একটি প্রতিষ্ঠান।
খনি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখানে তিনটি শিফটে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন এবং প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টন পাথর উত্তোলন করা হয়। দেশে নির্মাণ কাজের জন্য বার্ষিক পাথরের চাহিদা প্রায় ৩ কোটি মেট্রিক টন। এই চাহিদার একটি বড় অংশ মেটাতে মধ্যপাড়া খনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খনি থেকে উত্তোলিত পাথরগুলো বিভিন্ন আকারে প্রক্রিয়াজাত করে সারাদেশে সরবরাহ করা হয়।
উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীরা কিছুটা সংকটের মুখে পড়েছিলেন। তবে খনির সারফেস ইয়ার্ডে কয়েক লাখ টন পাথর মজুত রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। খনির প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ রফিজুল ইসলাম লিটু জানান, ভবিষ্যতে যাতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো কোনো উপকরণের অভাবে উৎপাদন বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আগাম সতর্কতা অবলম্বন করবে। পাথর উত্তোলনের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পসহ দেশের নির্মাণ খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন