দেশে হাম ও হামের উপসর্গের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশজুড়ে হামের উপসর্গে আরও ৩টি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ১২৫ জন শিশু, যাদের মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে সরাসরি হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬০ জনের শরীরে [cite: এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১২৫ জন। তাদের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬০ জনের।]। সোমবার (২২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন করে মারা যাওয়া এই তিন শিশু রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হামের কারণে তৈরি হওয়া এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে কেবল হামের উপসর্গের কারণেই ৫৯০ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে [cite: এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৯০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে।]। এছাড়া ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৩ জন শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ের মধ্যে হাম ও এর উপসর্গে সর্বমোট ৬৮৩টি শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। আক্রান্তের দিক থেকে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯৩ হাজার ৭৫৫টি শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ১৭১ জনের শরীরে। সামগ্রিকভাবে এই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৬ জনে।
হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশের হাসপাতালগুলোতে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তির চাপও অনেক বেড়েছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট ৭৭ হাজার ৭৪৩টি শিশু হামের বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, যথাযথ চিকিৎসা নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৭৩ হাজার ৯৮৫ জন শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যেতে পেরেছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবেই নতুন করে ৮৮৪টি শিশু হামজনিত কারণে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং একই সময়ে সফলভাবে চিকিৎসা শেষ করে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ১৩৬টি শিশু।
মন্তব্য করুন