সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল অনুমোদন করা হলেও এর সময়কাল, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন বেতন সমন্বয় না হওয়ায় এই পদক্ষেপ যৌক্তিক হলেও দুর্বল রাজস্ব আদায় এবং বড় বাজেট ঘাটতির মধ্যে অতিরিক্ত এই ব্যয় অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন বাড়লেও সরকারি খাতের সেবার মান ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি নিয়ে বড় ধরনের সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, এই খাতে সরকারকে অতিরিক্ত এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করতে হবে, যার কোনো প্রত্যক্ষ রিটার্ন বা সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সময়টি বেতন বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত বা অনুপযুক্ত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন বাড়লেও এর বিপরীতে সেবার মান একবিন্দুও বাড়বে না। তাছাড়া প্রশাসনিক সংস্কার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে বেতন বাড়ানোয় সাধারণ মানুষ কেবল বাড়তি দাম ও মুদ্রাস্ফীতির বোঝা টানবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বেতন বৃদ্ধি না হওয়া এবং মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই একটি সাহসী পদক্ষেপ। তবে তিনি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেছেন, সরকারি সংস্থাগুলো যদি তাদের কর্মদক্ষতা, জনসেবা এবং রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বাড়াতে পারে, তবেই এই উচ্চতর বেতন অর্থনীতিতে বড় কোনো নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করবে না।
সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে বেতন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা ছিল। তবে দুর্বল রাজস্ব আহরণ ও বাজেট ঘাটতির মধ্যে ব্যাংক ঋণ বা টাকা ছাপিয়ে এই অতিরিক্ত ব্যয় মেটানো হলে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এই পরিস্থিতি এড়াতে করজাল সম্প্রসারণ, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানো এবং ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি খাতের এই বেতন বৃদ্ধির ফলে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন সমন্বয়ের দাবিও জোরালো হতে পারে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
মন্তব্য করুন