ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দৌড়ে না থাকলেও, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির ওপর তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। গত বছর ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নোবেল দেওয়া এবং পরবর্তীতে সেই মেডেল ট্রাম্পকে উপহার দেওয়ার ঘটনা নোবেল কমিটির ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছিল। আগামী ৯ অক্টোবর এ বছরের শান্তিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণার আগে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের চাপ ও গত বছরের বিতর্ক এড়াতে এবার বেশ সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেবে পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটি।
বিশ্লেষকদের মতে, কাউকে এই পুরস্কার দেওয়া মানেই তাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলে দেওয়া কি না, তা গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করছে কমিটি। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল নাম। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতি, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পোপ লিউ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) কিংবা ফিলিস্তিনের অধিকার নিয়ে সোচ্চার জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রাঞ্চেস্কা আলবানিজের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির মুখে থাকা আন্তর্জাতিক আদালতগুলোকে সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যবস্থা ও মানবাধিকারের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে পারে কমিটি।
তবে ট্রাম্পকে সরাসরি ক্ষুব্ধ করার ঝুঁকি এড়াতে নরওয়েজিয়ান কমিটি কোনো নিরাপদ ও তুলনামূলক বিতর্কহীন বিকল্প বেছে নিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সুদানের গৃহযুদ্ধে ত্রাণ বিতরণকারী ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ বা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর মতো আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থাগুলোও এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের শান্তিতে নোবেল অর্জনের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। উদারনৈতিক গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষায় কমিটি শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন