বহু বছর পর নানাবাড়িতে এসে শৈশবের স্মৃতিচারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরামে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আজ বহু বছর পর নানাবাড়ি আসলাম। খুব সম্ভবত ১৯৮৪ সালে এসেছিলাম। এরপর ১৯৯১ সালে এসেছিলাম। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, নানাবাড়ির জন্য কাজ করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবারই প্রথম ফেনী সফরে যান তারেক রহমান। দিনব্যাপী সফরে জেলার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। সকালে ঢাকার নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
সফরের শুরুতে পরশুরামের ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রকল্পটির আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প উদ্বোধনের পর তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি নদীটি খননের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতেই তিনি সেখানে এসেছেন।
এ সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কিছু আসনে জয়ী হওয়ার পর তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, যারা তাদের নসিহত করছে, তাদের নিজেদের দিকেও তাকানো উচিত।
ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের পর ফুলগাজীতেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন, বৃক্ষরোপণ এবং সরকারি ভবনে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধনের কর্মসূচিও রয়েছে।
মন্তব্য করুন