বিশ্বখ্যাত দক্ষিণ কোরিয়ান কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস আসন্ন গ্রামি অ্যাওয়ার্ডসে তাদের কোনো গান বা অ্যালবাম জমা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। রেকর্ডিং একাডেমি সম্প্রতি একটি নতুন 'এশিয়ান পপ' ক্যাটাগরি চালু করার পর এর প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যান্ডটি। সমালোচকদের মতে, এই ধরনের পৃথক ক্যাটাগরি এশিয়ান শিল্পীদের বৈশ্বিক মূলধারার চেয়ে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলে।
বিটিএসের কামব্যাক অ্যালবাম 'আরিরং' (ARIRANG) চলতি বছরের অন্যতম সেরা ও সর্বাধিক বিক্রীত হিট হওয়ার সুবাদে মূলধারার প্রধান ক্যাটাগরিগুলোতে তাদের জয়ী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা ছিল। তবে ব্যান্ডের সাত সদস্য তাদের ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে যৌথভাবে জানান যে, তারা এ বছর গ্রামি প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গানকে আঞ্চলিকতা বা ভাষার ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত না করে বরং এর স্বকীয়তা ও মূল সুরের জন্য ভালোবাসা উচিত।
এর আগে একাধিকবার গ্রামির মনোনয়ন পেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো পুরস্কার জেতেনি বিটিএস। নতুন চালু হওয়া 'বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স' ক্যাটাগরিটির নিয়ম অনুযায়ী গানগুলোতে অন্তত একটি এশিয়ান ভাষার 'সার্থক ব্যবহার' বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে বিটিএসের নতুন এই অ্যালবামটি এই ক্যাটাগরির শর্ত পুরোপুরি পূরণ করে না। এদিকে গ্রামির প্রধান নির্বাহী হার্ভে মেসন জুনিয়র বিটিএসের এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করলেও দাবি করেছেন যে, এশিয়ান ক্যাটাগরি চালুর উদ্দেশ্য কেবল এশিয়ার সমৃদ্ধ পপ সংস্কৃতিকে যথাযথ সম্মান ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া।
তবে হংকং ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট গবেষক লি জি-ইয়ং মনে করেন, গ্রামি করণিকেরা বিটিএসকে যতটা না মূল্যায়ন করত, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় তার চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল গ্রামির। বিটিএস নিজেই এই সম্মানজনক পুরস্কার আসর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় প্রমাণ হয় যে, বৈশ্বিক সংগীতাঙ্গনে গ্রামি কর্তৃপক্ষের একচ্ছত্র আধিপত্য ও গেটকিপার হিসেবে তাদের প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। এর আগে ইউরোপীয় ট্যুর সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ফাইনালের জমকালো হাফটাইম শো মাতিয়ে বিশ্বজুড়ে ফের নিজেদের অপ্রতিরোধ্য অবস্থান জানান দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার এই লিজেন্ডারি ব্যান্ডটি।
মন্তব্য করুন