শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের বার্তার প্রেক্ষাপটে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শীঘ্রই পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বঙ্গভবন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতিকে স্বেচ্ছায় পদ ছাড়ার জন্য ইতোমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায থেকেও বার্তা দেওয়া হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মচারীদের দ্রুত বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি যেকোনো সময় স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারবেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটি এবার নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় এই পদটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচিত হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং নীতিনির্ধারকদের আস্থার জায়গা থেকে তাঁর নাম জোরালোভাবে সামনে আসলেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এটি হতে যাচ্ছে আরেকটি বড় পরিবর্তন।
মন্তব্য করুন