অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দীর্ঘ ২১ বছর পর ওয়ানডেতে প্রথম জয় এবং একই সাথে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে ক্যাঙ্গারুদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের মতো মহাকাব্যিক কীর্তি গড়ার পরও বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে তেমন কোনো জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন দেখা যায়নি। গত বৃহস্পতিবার মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সফরকারীদের ৫ উইকেটে হারিয়ে ট্রফি নিশ্চিত করার পর কেবল ড্রেসিংরুমের চেনা থিম সং গেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ক্রিকেটারদের। তবে ক্রিকেটের পরাশক্তিদের বিপক্ষে এমন ঐতিহাসিক অর্জনের পর দলের এই শান্ত ও সাদামাটা আবহ মোটেও পছন্দ হয়নি ইনফর্ম ব্যাটার সৌম্য সরকারের। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তিকে সিরিজ হারানোর আনন্দটা আরও অনেক বড় ও বর্ণিল হওয়া উচিত ছিল। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সৌম্য নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় আমাদের ক্রিকেটের জন্য একটি বিশাল অর্জন, যার জন্য আমি মনে করি আরও অনেক বড় উদযাপন হওয়া উচিত ছিল। আমরা কতটুকু কী করেছি জানি না, তবে এটি আরও ভালো হতে পারত। যদি আমরা শেষ ম্যাচে তাদের ৩-০ ব্যবধানে হারাতে পারি তবে তা অবশ্যই বিশাল কিছু হবে, তবে এই সিরিজ জয়ের আনন্দটাও আরও ভালোভাবে উদযাপিত হওয়া দরকার ছিল।’
টাইগারদের এই সিরিজ জয়ের পেছনে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সৌম্য সরকারের ৪২ রানের কাউন্টার-অ্যাটাকিং ইনিংসটি বড় ভূমিকা রেখেছিল। প্রথম ওভারেই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে আউট হওয়ার পর নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে ৮৬ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। সেই মারমুখী ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা নিয়ে সৌম্য জানান, ওজিদের মতো বড় দল প্রথম উইকেট পাওয়ার পর চেপে ধরার চেষ্টা করবে জেনেই তাঁরা রক্ষণাত্মক না হয়ে স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নিজের আউট হওয়া নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে সৌম্য স্পষ্ট করেন, পার্ট-টাইম বোলার ম্যাট রেনশর বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে আউট হলেও নিজের ক্রিকেটীয় শট নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই এবং ভবিষ্যতেও দলের প্রয়োজনে তিনি এই শট খেলবেন। একই সাথে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বোলারদের ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন এই অলরাউন্ডার। তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও তরুণ নাহিদ রানার গড়া বর্তমান পেস আক্রমণকে বিশ্বের অন্যতম সেরা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে যেখানে প্রতিপক্ষের বোলারদের সামলাতে টাইগারেরা হিমশিম খেত, এখন উল্টো বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটাররা বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভয়ে চাপে ভেঙে পড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এক ইঙ্গিত।
মন্তব্য করুন