বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ২-১ গোলের সেই শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের পর থেকে ফুটবল বিশ্বে একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জুড বেলিংহামের করা সমতাসূচক গোলটি কি আদৌ নিয়ম মেনে হয়েছে? গোলটির ঠিক আগে বলটি ক্যামেরার তারে স্পর্শ করে দিক পরিবর্তন করেছিল কি না, তা নিয়ে নরওয়ে খেলোয়াড়দের প্রতিবাদের পর বিষয়টি নিয়ে তুঙ্গে উঠেছিল বিতর্ক। অবশেষে এই বিতর্কের জবাব দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
শনিবার প্রকাশিত সেই বিবৃতিতে ফিফা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গোলটির বৈধতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই এবং বলের ক্যামেরার তারে আঘাত করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার মূলে ছিল নরওয়ের গোলরক্ষক ইয়র্ন নিল্যান্ডের একটি গোল-কিক, যা থেকে ইংল্যান্ডের আক্রমণের সূচনা হয়। সেই ফুটেজে বলের গতিপথ হুট করে বদলে যেতে দেখে নরওয়ের খেলোয়াড়রা দাবি করেছিলেন যে, বল বাতাসে থাকা অবস্থায় ক্যামেরার তারে বাধা পেয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, এমনটা ঘটলে খেলা সাথে সাথেই থামিয়ে ড্রপ বল দেওয়ার কথা ছিল।
ফিফার প্রযুক্তিগত দল এই ঘটনার বিশ্লেষণের জন্য বলের ভেতরে থাকা বিশেষ চিপ সেন্সরের তথ্য ব্যবহার করেছে। ফিফার দাবি, খেলার ওই ৪৫+২ মিনিটে বলের ভেতরে থাকা সেন্সরে কোনো ধরনের ‘হার্টবিট’ বা কম্পনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়েনি, যা বলের ওপরের কোনো তারে ধাক্কা লাগার ইঙ্গিত দেয়। এর আগে এবারের বিশ্বকাপের অন্যান্য ম্যাচেও এই একই প্রযুক্তি নিখুঁতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছিল, যা এবারও বিতর্কের জবাব দিতে কাজে লেগেছে।
ফিফার এই স্পষ্ট বার্তার পর এখন আর সন্দেহের অবকাশ নেই যে গোলটি ছিল পুরোপুরি বৈধ। নরওয়ে শিবির হতাশ হলেও প্রযুক্তির এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালের পথ এখন পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত এবং বেলিংহামের ওই গুরুত্বপূর্ণ গোলটি এখন ইতিহাসের পাতায় যথাযথ মর্যাদাতেই টিকে থাকছে।
মন্তব্য করুন