২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হারের পর থেকে টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অপরাজিত লিওনেল মেসির দল। তবে এবারের টুর্নামেন্টে ক্যাপ ভার্দে এবং মিশরের বিপক্ষে ম্যাচগুলো প্রমাণ করেছে, আর্জেন্টিনা এখন যতটা না ট্যাকটিক্যাল বা কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ দিয়ে খেলছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ভরসা করছে আবেগের ওপর। সুইসদের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে এই বিশ্বকাপে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সুইজারল্যান্ড ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৪তম স্থানে রয়েছে, যা উত্তর আমেরিকায় এখন পর্যন্ত আলবিসেলেস্তেদের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে মাঠের কৌশলের চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে দলের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে। কোচ লিওনেল স্কালোনি মিশরের বিপক্ষে জয়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি, মেসিকেও দেখা গেছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি আবেগপ্রবণ ও মানসিকভাবে অস্থির। ক্যাপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের যুদ্ধ এবং মিশরের বিপক্ষে রক্ষণভাগের দুর্বলতা সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা যেন কিছুটা ভারসাম্যহীন। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণে তাদের রক্ষণভাগ বারবার খাবি খাচ্ছে, যা সুইজারল্যান্ডের ৪-২-৩-১ ফরমেশনের বিপরীতে চিন্তার কারণ হতে পারে।
তবে আর্জেন্টিনার তুরুপের তাস এখনো মেসি। তিনি মাঠে অনেকটা সময় হেঁটে কাটিয়ে শক্তি সঞ্চয় করেন এবং ঠিক মোক্ষম সময়ে জ্বলে ওঠেন। মিশরের বিপক্ষে তৃতীয় গোলটির ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই তিনি গোল করার পথ বাতলে দিচ্ছেন। মেসি দলের দিকনির্দেশক হলেও, মাঠের লড়াইয়ে তাকে এখন অনেক বেশি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। স্কালোনি বারবারই বলেছেন, তার দল বিশৃঙ্খলার মধ্যেও ম্যাচ সামাল দিতে জানে।
স্কালোনির কথায়, "আর্জেন্টাইনদের ফুটবল নিয়ে যে আবেগ, তা অতুলনীয়। ট্যাকটিকস বা কৌশল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমরা আজকের ম্যাচে যা দেখিয়েছি সেই দৃঢ়তা না থাকলে আমরা অনেক আগেই ছিটকে পড়তাম।" কাতার বিশ্বকাপেও এই আবেগই ছিল তাদের সাফল্যের মূলমন্ত্র। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে লড়াই বা ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে সেই অদম্য মানসিকতাই আর্জেন্টিনাকে স্বপ্নপূরণে সাহায্য করেছিল।
প্রশ্ন এখন একটাই, কেবল আবেগ আর হৃদয়ের তাগিদ দিয়ে কি এবারের বিশ্বকাপ ধরে রাখা সম্ভব? সেমিফাইনালের পথে সুইজারল্যান্ড বাধা পেরোতে হলে মেসির জাদুর পাশাপাশি রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি। তবে মাঠের বাইরে কিংবা ভেতরে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল যেন সিস্টেম আর কৌশলের বাইরেও এক অনন্য মানবিক আবেগ নিয়ে খেলে, যা তাদের বারবার অসাধ্য সাধনের সাহস জোগায়।
মন্তব্য করুন