ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ফের বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো গোপনে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে। ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির সহায়তায় প্রাপ্ত স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে সিএনএন।
প্রতিবেদনে পারচিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিস্ফোরক উপাদান মজুত থাকার আশঙ্কা করা হয়। সিএনএন-এর বিশেষজ্ঞ কেটি পোলগ্লেস জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রাপ্ত জুন ও জুলাই মাসের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, হামলায় সৃষ্ট গর্তগুলো মেরামত করতে ইরান বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। গর্তগুলোর ওপর অস্থায়ী ঢাকনা বসানো, জাল ব্যবহার করা এবং কাছাকাছি এলাকায় কংক্রিট মেশানোর ট্রাকের উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, ইরান দ্রুত এই স্থাপনাগুলো পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছে।
পিক্যাক্স মাউন্টেনে অবস্থিত আরেকটি সন্দেহভাজন স্থাপনাতেও একই ধরনের কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে টানেলের ভেতরে ট্রাকের চলাচল নিয়মিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কর্মকাণ্ড জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সরাসরি লঙ্ঘন। চুক্তিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল যে, ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। অথচ যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তির মধ্যেই এই ধরনের কর্মকাণ্ড ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই স্যাটেলাইট চিত্রগুলো এখন সেই দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইরান যদি সত্যিই পরমাণু স্থাপনাগুলোতে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সামরিক উত্তেজনার জন্ম দেবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ইরান এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে পরবর্তী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
মন্তব্য করুন