মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে ভারতের শেয়ারবাজারে গত তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে। বুধবার (৮ জুলাই) লেনদেনের দিন শেষে ভারতের বেঞ্চমার্ক সূচক নিফটি ৫০ প্রায় ২ দশমিক ১২ শতাংশ হারিয়ে ২৩ হাজার ৮৮২ দশমিক ৫ পয়েন্টে নেমে আসে। একইসঙ্গে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) সেনসেক্স ১ হাজার ৬৮০ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ১৫ শতাংশ দর হারিয়ে ৭৬ হাজার ৫০৩ দশমিক ৬ পয়েন্টে থমকে দাঁড়ায়। এই পতনকে বিশ্লেষকরা গত তিন মাসের মধ্যে বাজারের সবচেয়ে খারাপ দিন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বাজারের এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে জ্বালানি তেলের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারে পৌঁছে যায়। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের অর্থনীতিতে এই দাম বৃদ্ধি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। তেলের দাম বাড়ার ফলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির নতুন ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আর্থিক ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও। সূচকের ১৬টি প্রধান খাতের সবকটিতেই লোকসান হয়েছে, যার মধ্যে আর্থিক খাতের শেয়ার ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আইটি খাতের শেয়ার ১ দশমিক ৪ শতাংশ দর হারিয়েছে। এছাড়া স্মল-ক্যাপ ও মিড-ক্যাপ সূচকের পতন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে বিমান সংস্থা, টায়ারের কোম্পানি ও রং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের বড় ধরনের দরপতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ভারতীয় রুপির মান ডলারের বিপরীতে প্রায় ০ দশমিক ৬২ শতাংশ কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারেও চাপ লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকলে এবং জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আরও শেয়ার বিক্রির দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা ভারতের বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। আপাতত পুরো বিনিয়োগকারী মহল মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।
মন্তব্য করুন