ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের এই বিদায় মুহূর্তটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাবিধুর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত এই নেতার জানাজার নামাজ আজ তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অত্যন্ত শোকাবহ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। তবে জানাজার এই আনুষ্ঠানিকতায় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি ছিল খামেনির পরিবারের ছোট সদস্য ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির শেষ বিদায়। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রকাশ করা ফুটেজে দেখা গেছে, প্রিয় নেতার কফিনের পাশেই রাখা হয়েছে এই অবুঝ শিশুটির ছোট কফিন, যা উপস্থিত লাখো মানুষের চোখকে আর্দ্র করে তুলেছে।
জানাজার নামাজটি তিনটি ধাপে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে পরিচালনা করেন শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। প্রথম পর্যায়ে আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্য সাইয়্যেদে বুশরা হোসেইনি খামেনি, মেসবাহ আল-হোদা বাকেরি এবং জাহরা হাদ্দাদ আদেলের জন্য নামাজ আদায় করা হয়। সর্বশেষ পর্যায়ে ১৪ মাসের শিশু জাহরা মোহাম্মাদির জন্য জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই কঠিন সময়ে জাহরার বাবা মোহাম্মদ জাওয়াদ মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি সেখানে উপস্থিত থেকে নিজের পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন। একই হামলায় শিশুটির মা তথা খামেনির মেয়ে বুশরা খামেনিও প্রাণ হারিয়েছিলেন।
সকাল ৮টায় নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণ শোকাতুর মানুষের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। পুরো ইরানজুড়ে এখন বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে এবং এই শোকার্ত মানুষগুলো তাদের নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন। এই হৃদয়বিদারক বিদায় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৭ বছরের এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। শোকের এই আনুষ্ঠানিকতা কেবল তেহরানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং আগামী ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে দাফনের পূর্ব পর্যন্ত পুরো দেশ বিভিন্ন ধাপের শোকযাত্রার মাধ্যমে তাদের নেতাকে স্মরণ করবে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবার নয়, বরং পুরো জাতির হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য করুন