যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য আলোচনা আকস্মিকভাবে ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই আলোচনার পতনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, কানাডা মূলত মার্কিন অঙ্গরাজ্য না হয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সুবিধা ভোগ করতে চায়। গত শুক্রবার গভীর রাতে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এর পরপরই মার্কিন প্রশাসন কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপ করে। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন যে, মার্কিন কৃষকদের দীর্ঘকাল ধরে কানাডার বাজারে বিপুল পরিমাণ শুল্কের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন এই পদক্ষেপকে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিভক্ত করার একটি ভুল হিসাব বলে অভিহিত করেছেন। আলোচনার এই নাটকীয় পতনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে কানাডা মার্কিন পণ্যের ওপর ডলারের বিপরীতে ডলাবে সমান শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্নি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং শেষ মুহূর্তে অগ্রহণযোগ্য শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার কারণে কানাডা এই আলোচনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমানে দুই দেশ একটি বাণিজ্য যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
উভয় দেশই চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুপক্ষই পারস্পরিক শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ তোলার পর পুরো প্রক্রিয়াটি ভেস্তে যায়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যে মার্কিন পক্ষ এমন কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছিল যা তাদের সার্বভৌমত্ব এবং অন্যান্য দেশের সাথে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য চুক্তি করার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে। অপরদিকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন যে কানাডা ইতিপূর্বে সম্মত হওয়া শর্তগুলো থেকে সরে এসে নতুন নতুন দাবি উত্থাপন করেছে। বর্তমানে এই পরিস্থিতির কোনো সহজ সমাধান বা পুনরায় আলোচনা শুরু করার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন পক্ষ। এই বাণিজ্য সংকটের জেরে দুই দেশের গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মন্তব্য করুন