বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর মঞ্চে আজ এক ঐতিহাসিক লড়াইয়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। মেক্সিকো সিটির কিংবদন্তি স্টেডিয়াম ‘এস্তাদিও আজতেকা’-য় মুখোমুখি হচ্ছে লাতিন আমেরিকার অদম্য আবেগ মেক্সিকো এবং ইউরোপীয় ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী শক্তি ইংল্যান্ড। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে কেবল দক্ষতার লড়াই নয়, বরং খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতার এক চূড়ান্ত পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৬টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মেক্সিকো এবার তাদের চিরচেনা আক্রমণাত্মক ফুটবল ও গ্যালারির হাজারো সমর্থকের ট্রাম্পেটের শব্দের সুরে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুরু করা মেক্সিকো গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে এসেছে। সান্তিয়াগো গিমেনেসের গোল করার ক্ষুধা এবং গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ার অতিমানবিক পারফরম্যান্স এল ত্রি-কে এক অপরাজেয় শক্তির রূপ দিয়েছে। তারা জানে, ঘরের মাঠের এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে এবার শেষ ষোলোর বাধা টপকে বহুদূর এগিয়ে যাওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ৬০ বছরের শিরোপার খরা কাটানোর লক্ষ্য নিয়ে আসা ইংল্যান্ডের লক্ষ্য এবার বিশ্বকাপ ট্রফি। হ্যারি কেইনের নেতৃত্বাধীন থ্রি লায়ন্সরা জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা ও ফিল ফোডেনের মতো তরুণ তুর্কিদের নিয়ে যেকোনো রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলতে সক্ষম। গ্রুপ পর্বে এবং রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের পারফরম্যান্স ছিল নিয়ন্ত্রিত ও কৌশলী। কোচ টমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত ফুটবল খেলছে। তবে মেক্সিকোর উচ্চতার চ্যালেঞ্জ এবং স্বাগতিক সমর্থকদের চাপ সামলে তারা কীভাবে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা ধরে রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কৌশলের বিচারে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ইংল্যান্ড যেখানে বলের দখল রেখে ধীরে ধীরে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পছন্দ করে, সেখানে মেক্সিকো পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায় ওৎ পেতে থাকবে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ভেন্যু আজতেকায় যখন শেষ বাঁশি বাজবে, তখন একটি দলের স্বপ্নপূরণের পথ প্রশস্ত হবে, আর অন্য দলকে বিদায় নিতে হবে অশ্রুভেজা চোখে। ইতিহাসের পাতায় কে আজ রূপকথা লিখবে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড নাকি গিমেনেসের মেক্সিকো? সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব।
মন্তব্য করুন